1. jitsolution24@gmail.com : Rajbaribd desk : Rajbaribd desk
বৃহস্পতিবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২২, ০৩:১৯ অপরাহ্ন
Title :
৬০ বছরের স্বপ্ন পূরন ॥ গোয়ালন্দে ২ কিলোমিটারের সেই রাস্তাটির প্রকল্প অনুমোদন দৌলতদিয়া ঘাটের দালাল চক্রের ১১ সদস্য আটক রাজবাড়ী কারাগার পরিদর্শন করলেন জেলা প্রশাসক মিঠু সভাপতি, সাগর সম্পাদক রাজবাড়ী জেলা শাখা ফারিয়া’র নির্বাচন গোয়ালন্দে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে ইমাম কমিটির কর্মশালা গোয়ালন্দে থানা পুলিশের অভিযানে দালালসহ ৬জন গ্রেপ্তার পাংশায় সাংবাদিক কাজী সেলিম মাবুদের অষ্টম গ্রন্থ “পাহাড়ি জোছনা”র মোড়ক উন্মোচন কালুখালীতে একটি সেতু না থাকায় দুর্ভোগ রাজবাড়ীতে নমুনা পরীক্ষার প্রায় অর্ধেকই করোনা আক্রান্ত ॥ নেই সচেতনতা “ডেসটিনি নিহাজ জুট মিল” ॥ আদালতের ক্রোকের নির্দেশনার পরও মিল চালাচ্ছে কারা!

রাজবাড়ী শহর রক্ষা বাধের কাজে ধীরগতি

Reporter Name
  • Update Time : সোমবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯
  • ৫৫১ Time View

মেহেদী হাসান ॥
৩৪১ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন রাজবাড়ী নদী তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের কাজে চলছে মন্থর গতি। গত দেড় বছরে শেষ হয়েছে প্রকল্পের মাত্র ২০ ভাগ কাজ। ফলে নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পটি সম্পন্ন হবে কি না এনিয়ে রীতিমত সংশয় দেখা দিয়েছে।
রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, পদ্মা নদীর অব্যাহত ভাঙ্গন রোধ এবং রাজবাড়ী শহর রক্ষা বাঁধ সংরক্ষণের জন্য ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে শুরু হয়েছে রাজবাড়ী শহর রক্ষা বাধ ফেইজ-২ নদী তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের কাজ। রাজবাড়ী শহরের গোদার বাজার থেকে ২.৫ কি:মি: উজান এবং ৩ কি:মি: ভাটি এলাকা পর্যন্ত দীর্ঘ ৪.৫ কি:মি: এলাকা জুড়ে এ প্রকল্পের অবস্থান। প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়নের জন্য ঠিকাদার হিসেবে সরকারীভাবে নিয়োগ করা হয়েছে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন খুলনা শিপ ইয়ার্ড কর্তৃপক্ষকে। রাজবাড়ী শহর রক্ষা বাধ ফেইজ-২ প্রকল্পটি ২০২০ সালের ৩১ জুনের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
কার্যালয়টির তথ্যমতে আরো জানাযায়, এর আগে ২০০৯-১০ অর্থ বছরে ৮৩ কোটি ৭৬ লাখ টাকা ব্যয়ে রাজবাড়ী সদর উপজেলার গোদার বাজার থেকে শুরু করে বোতলা স্লুইচ গেট পর্যন্ত ২ দশমিক ২৪ কিলোমিটার এলাকায় রাজবাড়ী শহর রক্ষা বাঁধ (ফেজ- ১) প্রকল্পের আওতায় পদ্মার তীর সংরক্ষণ কাজ করা হয়েছিল। চলতি বছরের বন্যায় যার অন্তত ৯ শ মিটার এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে প্রায় ৩০ কোটি টাকা অর্থের ক্ষতি হয়েছে।
রাজবাড়ী জেলা সদরের বরাট ইউনিয়নের বরাট বাজার এলাকায় গিয়ে দেখাযায়, সেখানে পাশাপাশি দুটি ট্রলার থেকে পাথর নামানো কাজ করছেন শ্রমিকরা। এ সময় শ্রমিক কবির মোল্লা বলেন, আমরা দিন মজুর হিসেবে ট্রলার থেকে পাথর ও সিমেন্ট নামিয়ে দেই প্রতিদিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ৫০ জন শ্রমিক এই পাথর নামানোর কাজ করছি।
বরাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান সালাম বলেন, প্রকল্পের কাজ ধীর গতিতে বাস্তবায়িত হওয়ায় নানামুখী সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। প্রকল্পের দীর্ঘসূত্রিতার কারণে গত বছর রাজবাড়ী শহর রক্ষা বাঁধের যে ক্ষতি হয়েছে তার পুরনের মত নয়। বড় বড় সাহেবরা বড় বড় কথা বলেন, কাজের বেলায় জিরো। এই কাজটি করছে নৌবাহিনী, তারা দিয়েছেন ডিবিএলকে, ডিবিএল আবার স্থানীয় ইট, বালু, পাথরের জন্য আলাদা আলাদা ঠিকাদার নিয়োগ দিয়েছে। যে কারনে কাজ এগুচ্ছে না। কাজের ধীর গতি ও নি¤œমানের পাথর ব্যবহার করার খবর পেয়ে গত মাসের প্রথম দিকে পানি সম্পদ উপমন্ত্রী এনামুল হক শামীম পরিদর্শনে এসে সে পাথর বাতিল করেছে।
তিনি আরো বলেন, কয়েক বছরের বন্যায় বরাট ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষ গৃহহারা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সুন্দর সোনার বাংলা গড়তে কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে আমরা সেই টাকার সুষ্ঠ ব্যবহার চাই। কাজের মান ঠিক রেখে কাজ শেষ করার দাবী আমার। এই কাজটি ভালোভাবে সমাপ্ত হলে রাজবাড়ী শহর টি বাঁচবে।
খুলনা শিপ ইয়ার্ড কর্তৃপক্ষের একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, বর্তমানে ৩ টি ড্রেজার দিয়ে ড্রেজিং কাজ চলছে। কাজটি হস্তান্তরের পরেই বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ায় ওই সময় কাজ করা যায়নি। তবে ভাঙ্গনরোধে পর্যাপ্ত জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছিলো। এছাড়া জিও ব্যাগ ডাম্পিং ও কিছু সিসি ব্লক পরীক্ষামূলকভাবে স্থাপন করা হয়েছে। তবে স্থানীয়ভাবে নিযুক্ত সহযোগী ঠিকাদারদের অসহযোগিতার কারণে কাজ বিলম্বিত হচ্ছে।
রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ সফিকুল ইসলাম জানান, ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে কাজটি শুরুর পর থেকে এপর্যন্ত ২০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। কাজটি তদারকি করছে নৌবাহিনী সাথে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারাও দেখভাল করছে। চলমান কাজের গতি আরো বাড়ানোর জন্য ঠিকাদারদের বার বার বলা হচ্ছে।
এদিকে রবিবার সকালে জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক মোঃ শওকত আলী পানি উন্নয়ন বোর্ড রাজবাড়ীর নির্বাহী প্রকৌশলীকে বলেন, আপনারা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে আরো কাজের গতি বাড়াতে বলেন, বর্ষা মৌসুমের মাত্র তিন মাস বাকি আছে ওই সময় তো কাজ করতে পারবে না। শহর রক্ষা বাধের কাজে গাফিলতি হলে জেলা প্রশাসন তার দায়ভার নিবে না।
জেলা প্রশাসক আরো বলেন, রাজবাড়ীর সব কয়টি উপজেলাই নদী ভাঙ্গনের কবলীত। এ জেলায় ৮৫ কিলোমিটার এলাকায় নদী পথ রয়েছে যা দেশের আর কোথাও নেই। গত বন্যায় রাজবাড়ীর বেশ ক্ষয় ক্ষতি হয়েছে। কাজের মান ঠিক রেখে নির্দিষ্ট সময়ে শেষ করতে হবে না হলে হুমকিতে পরবে রাজবাড়ী জেলা।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Design by: JIT Solution