1. jitsolution24@gmail.com : Rajbaribd desk : Rajbaribd desk
মঙ্গলবার, ০৪ অক্টোবর ২০২২, ০৩:৫১ পূর্বাহ্ন
Title :
গোয়ালন্দের পূজামন্ডপ পরিদর্শন ও উপহার সামগ্রী দিলেন পুলিশ সুপার পাংশায় ডিসি-এসপি’র মন্দির পরিদর্শন সহজ পাঠ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের গোয়ালন্দে ওসি’র ফুলেল শুভেচ্ছা গোয়ালন্দে রেলওয়ে পুলিশ সুপারের দূর্গা মন্দির পরিদর্শন গোয়ালন্দে পিছিয়ে পড়া শিশুদের অংশগ্রহনে প্রীতি ফুটবল খেলার আয়োজন রাজকীয় বিদায় দিলেন পাংশা থানার কনস্টেবলকে দৌলতদিয়া ঘাট আধুনীকায়ন প্রকল্প ॥ হয়নি জমি অধিগ্রহন, তবুও নভেম্বরে কাজ শুরুর আশা কালুখালীতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন গোয়ালন্দে ঘরের বেড়ায় ঢেড়স চাষ, মিটাচ্ছে পারিবারিক চাহিদা রাজবাড়ীতে পাট কাঠি বিক্রি করেও লাভবান চাষিরা

বেঁচে থাকার জন্য এ বয়সে ওরা রিকসা চালায়

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯
  • ৬৩২ Time View

রুবেলুর রহমান ॥
জীবন মানেই যুদ্ধ, আর বেঁচে থাকার জন্য আমরা কি না করি। নাই শিক্ষা, নাই জমি-জমা ও নাই আর্থিক স্বচ্ছলতা এবং ছেলে সন্তান থাকলেউ দ্বায়িত্ব নেন না বৃদ্ধা মা-বাবার।
তাই জীবন যুদ্ধে দু-বেলা দু-মুঠো ডাল ভাত খেয়ে বেঁচে থাকার জন্য অন্য কোন উপায় না পেয়ে রিকসা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন রাজবাড়ীর ৫৫ বছর বয়সী উদ্ধের বহু বৃদ্ধরা।
এই বয়সে যাদের নাতি-নাতনি নিয়ে আনন্দ ফূর্তি ও নামাজ কালামা পড়ে কাঠনোর কথা কিন্তু পরিবারের একটু স্বচ্ছলতা আনতে জীবিকার দাগিদে শত কষ্টেও রিকসা চালিয়ে উপার্যন করতে হচ্ছে । অনেকের ছেলে-মেয়ে থাকলেউ অভাব-অনটনের কারণে বৃদ্ধ বয়সী পিতা-মাতার দ্বায়িত্ব না নেওয়ায় এক প্রকার বাধ্য হয়েই আজ তারা রিকসা চালাচ্ছেন। আবার অনেকের সন্তান না থাকায় রিকসা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতে হচ্ছে। এদের মধ্যে অনেক রিকসা চালক প্রায় ৪ যুগ (৪৮) বছর ধরে রিকসা চালাচ্ছেন। সারা দিন রিকসা চালিয়ে তাদের আয় হয় ৪ থেকে ৬শ টাকা। এর মধ্যে রিকসার ভাড়া দেন দেড় থেকে ২শ টাকা।
বর্তমান সময়ে আমাদের মাথা পিছু আয় বাড়লেউ, সেই সাথে বেড়েছে দৈনিন্দিন জীবনে সকল পন্যের দাম। সারাদিন রিকসা চালিয়ে তাদের যা আয় হয়, তা দিয়ে রিকসা মালিকের ভাড়া মিটিয়ে সামান্য কিছু টাকা থাকে। সে টাকা দিয়েই চালাতে হয় সাংসার খরচ। ইচ্ছা থাকলেউ অনেক সময় নানান জিনিসপত্র কিনতে পারেন না টাকার অভাবে। তারপরও পরিবারের একটু স্বচ্ছলতা আনতে দিন-রাত রিকসা চালিয়ে যাচ্ছেন ওই বৃদ্ধরা। অসুস্থ জনিতসহ বিভিন্ন কারণে একদিন রিকসা চালানো বন্ধ থাকলে অনেকের বাড়ীতে হয় না রান্না। সরকার থেকে দেওয়া ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃক পান না তারা কোন সুযোগ-সুবিধা।
রাজবাড়ী সদর উপজেলার দাদশী ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর এলাকার মৃত মান্নান তফাদারের ছেলে রফিক দফাদার (৬৫)। যার ৫ ছেলে-মেয়ে থাকলেউ এই বৃদ্ধ বয়সে এখনো তাকে রিকসা চালিয়ে সংসার চালাতে হচ্ছে। প্রায় ৩৫ বছর ধরে তিনি রিকসা চালান। বর্তমানে তিনি টিবি রোগে আক্রান্ত। তাই নিয়মিত পারেন না রিকসা চালাতে। তারপরও রিকসা চালাতে হচ্ছে জীবিকার তাগিদে। সামান্য একটু জমি আছে যা থেকে কিছু ফসল পান কিন্তু চাষাবাদেও লাগে অনেক টাকা। অনেকেই চেয়ারম্যান-মেম্বর থেকে সুবিধা পান কিন্তু তিনি পান না। এছাড়া কিস্তির ঝামেলা রয়েছে।
এদিকে আলীপুর ইউনিয়নের মৃত চাদাই খানের ছেলে মঈফল খান (৬৩) । যিনি ১৬-১৭ বয়স থেকে রিকসা চালানো শুরু করেন এবং বিয়ের করেন তার কয়েকবছর পর। বড় পরিবার হওয়ায় তাদের পরিবারের কেউ শিক্ষা অর্জন করতে পারেন নাই। বাবা কৃষি কাজ করে সংসার চালাতেন, সাথে সহযোগিতা করতেন তারা। বাবার মৃত্যুর পর সামান্য ৫ শতাংশ জমি পেয়েছেন, যার উপর রয়েছে তার বসতবাড়ী। এছাড়া সম্পদ বলতে আর কিছুই নাই। দুই মেয়ে দুই ছেলে, সবাই তাদের পরিবার নিয়ে ব্যাস্ত। এখন বাড়ীওয়ালাকে নিয়ে বেঁচে থাকার জন্য এ বয়সেও রিকসা চালাতে হচ্ছে। আর যে রিকসাটি তিনি চালান সেটিও ভাড়ায় চালান। রিকসা চালিয়ে যা আয় হয় তা দিয়ে কোন রকম সংসার চলে এবং আল্লাহ চালায়। ব্যাটারী চালিত রিকসা হওয়ায় কিছুটা সুবিধা পাচ্ছেন, আর যে বয়স হয়েছে পা রিকসা হলে চালাতে পরতেন না। জমি-জমাও নাই যে তা চাষাবাদ করে চলবেন। তাই তাদের মত বৃদ্ধদের প্রতি সরকারের নজরের দৃষ্টি আকর্ষন করেন।
অপরদিকে বানিবহ ইউনিয়নের বেথুলিয়া নতুন পাড়ার মৃত ফজের আলী শেখের ছেলে ইব্রাহিম শেখ (৬০)। যিনি প্রায় ৪০ বছর ধরে রিকসা চালান। আগে পা রিকসা চালাতেন আর এখন ব্যাটারী চালিত রিকসা চালান। রিকসা চালিয়ে যা পান, তা দিয়ে এবং সন্তানদের থেকে কিছু টাকা নিয়ে সংসার চালান। এভাবেই চলছে তার দিন।
এছাড়া মিজানপুর ইউনিয়নের চরনারায়নপুর এলাকার মৃত বলাই শেখের ছেলে কুটি শেখ (৫৫)। ৪০ বছর ধরে তিনি রিকসা চালিয়ে জীবন ধারন করছেন। নিজের সম্পত্তি বলতে কোন কিছুই নাই। কোন সহযোগিতাও পান না কারও থেকে। দিন শেষে রিকসা ভাড়া দিয়ে যা থাকে তা দিয়ে কোন রকম চলেন। রিকসা না চালালে কিস্তির টাকা তো পরিশোধ করতে পারবেন না।
সদর উপজেলার কাটাখালী এলাকার মৃত ফজের আলী শেখের ছেলে শুকুর আলী শেখ (৭৫) অন্য কোন কাজ না পারায় তিনি এ পেশা বেছে নিয়েছেন এবং এ থেকে যা আয় হয় তা দিয়েই কষ্টে দিন যাপন করছেন।
রাজবাড়ীর পাঁচটি উপজেলার মধ্যে রাজবাড়ী সদর ও গোয়ালন্দ উপজেলায় রিকসার প্রচলন থাকলেউ বালিয়াকান্দি, কালুখালী ও পাংশায় রয়েছে ভ্যানের প্রচলন। বর্তমান সময়ে ব্যাটারী চালিত রিকসা হওয়ায় বৃদ্ধ চালকদের একটু সুবিধা হলেউ যাত্রীর তুলনায় রিকসা রয়েছে কয়েকগুন। বৃদ্ধ বয়সী চালকদের এক রকম প্রতিযোগীতা করেই রিকসা চালাতে হয়। অনেক যাত্রী বৃদ্ধ চালকদের রিকসাতে ওঠে না এমন অভিযোগও রয়েছে। তবে আগের তুলনায় বর্তমান সময়ে ব্যাটারী চালিত রিকসা হওয়ায় বৃদ্ধ চালকরা একটু সুবিধা পাচ্ছেন। এ কারণে জেলায় বৃদ্ধ রিকসা চালকদের সংখ্যাটাও একটু বেশি।
রাজবাড়ী জেলা বিকসা ও ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়ন কার্যালয় সুত্রে জানাগেছে, জেলায় প্রায় ৪ হাজারের অধিক লাইসেন্সকৃত রিকসা ও ভ্যান রয়েছে এবং লাইসেন্স ছারা আরো প্রায় ১৫ হাজারের অধিক রিকসা ও ভ্যান রয়েছে। কোন শ্রমিক দূর্ঘটনায় মারা গেলে বয়স অনুযায়ী তার পরিবারকে এককালীন ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা দেওয়া হয় শ্রমিক ইউনিয়ন থেকে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Design by: JIT Solution