1. jitsolution24@gmail.com : Rajbaribd desk : Rajbaribd desk
মঙ্গলবার, ০৯ অগাস্ট ২০২২, ০৪:১৮ অপরাহ্ন

গোয়ালন্দে পথের ধারেই কন্যা সন্তান জন্মদিল দরিদ্র মা

Reporter Name
  • Update Time : মঙ্গলবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯
  • ৭৯৯ Time View

শামীম শেখ ॥
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ হাসপাতাল থেকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করলেও পথের ধারেই অনেকটা নিরাপদে ফুটফুটে কন্যা সন্তান জন্ম দিলেন হতদরিদ্র এক মা। মঙ্গলবার এ ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের হোসেন মন্ডল পাড়ার দরিদ্র মাছ ব্যবসায়ী আইয়ুব আলীর গর্ভবতী স্ত্রী আলেয়া বেগম (৩৫)। সোমবার সন্ধ্যার দিকে তার পেটে প্রচন্ড ব্যাথা উঠলে পরিবারের লোকজন তাকে গোয়ালন্দ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করে। রাতের চিকিৎসা চললেও সকাল ১০টার দিকে আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. তাপস চন্দ্র মন্ডল আলেয়া বেগমের অবস্থা জটিল বলে এবং এখানে গাইনী ডাক্তার না থাকায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। কিন্তু ফরিদপুরে যাওয়ার মতো আর্থিক সঙ্গতি না থাকায় কুসংস্কারাচ্ছন্ন অভিভাবকরা গোয়ালন্দ পৌরসভার জুড়ান মোল্লার পাড়া এলাকায় কথিত এক পাগলের দরবারে নিয়ে যায়। সেখানে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সে গুরুতর অসুস্থ্য হয়ে পড়ে।
ওই গ্রামের বাসিন্দা স্কুল শিক্ষক সুরাইয়া আক্তার জানান, ওই মহিলার অবস্থা বেগতিক দেখে গ্রামের আসমা খাতুন, মাজেদা বেগম, তানিয়া আক্তার, আশা আক্তার, চায়না আক্তারসহ কয়েকজন এগিয়ে যান। তাদের সহায়তায় পথের ধারেই আলেয়া একটি কন্যা সন্তান প্রসব করেন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে বাড়ীতে পাঠিয়ে দেয়া হয়। তার অবস্থা খারাপ হলে সন্ধ্যার দিকে পূণরায় তাকে গোয়ালন্দ হাসপাতালে এনে ভর্তি করা হয়।
এ দিকে এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, হাসপাতাল থেকে বেরনোর মাত্র আধা ঘন্টা পর তেমন কোন সমস্যা ছাড়াই আলেয়া বেগম ফুটপাতে বাচ্চা প্রসব করলো। অথচ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চেষ্টা করলে সেখানেই তার বাচ্চা হতে পারতো। গাইনী ডাক্তার না থাকার অজুহাতে এভাবে স্বাভাবিক প্রসুতিদেরও হাসপাতাল থেকে পাঠিয়ে দেয়া হয় বলে দীর্ঘদিনের অভিযোগ।
আলেয়া বেগমের স্বামী আইয়ুব আলী বলেন, আমি গরীব মানুষ। সোমবার সন্ধ্যার পরে আমার স্ত্রীকে হাসপাতালে রেখে আসি। সাথে আমার শ্বাশুরী দৌলতী বেগম ছিলেন। সকালে তাদেরকে রেফার্ড করা ও পাগলের দরবারে যাওয়ার ব্যাপারটি আমি পরে শুনেছি। আমার স্ত্রী ও নবজাতক শিশু খুবই অসুস্থ্য।
গোয়ালন্দ হাসপাতালের আবাসিক ডা. তাপস চন্দ্র মন্ডল জানান, ওই মহিলার পানি ভেঙে পেটে প্রচন্ড ব্যাথার সৃষ্টি হয়। আমরা তার কিছু পরীক্ষা করাতে চাইলেও তারা রাজী হচ্ছিল না। পরে সকালে তাদের আগ্রহেই ফরিদপুর মেডিকেলে রেফার্ড করি। তাছাড়া আমাদের এখানে গাইনী সার্জন নেই। হাসপাতাল থেকে যাওয়ার পর তারা কোথায় গেলেন তা আমার জানা নেই।

 




Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Design by: JIT Solution