1. jitsolution24@gmail.com : Rajbaribd desk : Rajbaribd desk
বৃহস্পতিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০২:০৪ পূর্বাহ্ন

চিকিৎসক সংকটে গোয়ালন্দে চিকিৎসা দিচ্ছেন মেডিকেল অ্যাসিসটেন্টরা

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ৬ মার্চ, ২০১৯
  • ৬১৫ Time View

গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে (৫১ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল) চিকিৎসক সংকটে বহিঃবিভাগসহ জরুরী বিভাগে চিকিৎসা দিতে বাধ্য হচ্ছেন মেডিকেল অ্যাসিসটেন্টরা। ছোট-খাটো অসুস্থতায় প্রাথমিক চিকিৎসা মিললেও চিকিৎসকের অভাবে মিলছে না পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা। বহিঃবিভাগে চিকিৎসকের পরিবর্তে মেডিকেল অ্যাসিসটেন্ট দেখে অনেকে রোগী ফিরে যাচ্ছেন। এতেকরে রোগী ও রোগীর স্বজনদের ছুটতে হচ্ছে রাজবাড়ী ও ফরিদপুরের বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে। দূর্ভোগের সাথে খরচ হয়ে যাচ্ছে মোটা অঙ্কের অর্থ।
জানা যায়, রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পদ ১০টি ও মেডিকেল অফিসারসহ অন্যান্য চিকিৎসকের পদ ১৫টি। মোট ২৫টি পদের মধ্যে ১৫টি পদই শুন্য। প্রয়োজনীয় চিকিৎসক না থাকায় অত্যাধুনিক অপারেশন থিয়েটারও (ওটি) কয়েক বছর ধরে বন্ধ আছে। পাশাপাশি এক্স-রে মেশিনও বিকল হয়ে আছে। এতে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে রোগীরা।
৫০ শয্যাবিশিষ্ট ওই হাসপাতাল ব্যস্ততম দৌলতদিয়া-খুলনা মহাসড়কের পাশে অবস্থিত। মহাসড়কে প্রতিনিয়ত দূর্ঘটনায় কবলিত রোগী ছাড়াও স্বাস্থ্যসেবা পেতে উপজেলার দুই লক্ষাধিক মানুষের ভরসা এই হাসপাতাল। প্রতিদিন গড়ে চার শতাধিক রোগী এখানে সেবা নিতে আসে। কিন্তু প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না পেয়ে অনেক রোগীই ফিরে যেতে বাধ্য হয়। সরকারি ওই হাসপাতালে অনুমোদিত তিনজন মেডিক্যাল অফিসারের পাশাপাশি মেডিসিন, সার্জারি, গাইনি, চক্ষু, কার্ডিওলজি, ইএনটি, শিশু, চর্ম ও যৌন, অর্থোপেডিকস ও অ্যানেসথেসিয়ায় একজন করে জুনিয়র কনসালট্যান্ট থাকার কথা। কিন্তু গাইনি, শিশু, কার্ডিওলজি ও অর্থোপেডিকস ছাড়া অন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের ছয়টি পদ শুন্য। তবে গাইনি বিশেষজ্ঞ ফারজানা ইসলামকে ২০১৫ সালের ১৫ এপ্রিল এ হাসপাতালে পদায়ন করা হলেও প্রায় সাড়ে তিন বছর ধরে তিনি ডেপুটেশনে (প্রেষণে) ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে হাসপাতালে আছেন। গত বছরের ৮ জুলাই স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় তাঁর প্রেষণ আদেশ বাতিল করে। এরপর আট মাস পেরিয়ে গেলেও এ পর্যন্ত তিনি কর্মস্থলে যোগ দেননি।
এদিকে শিশু বিশেষজ্ঞ আলাউদ্দিন গত বছরের ২০ অক্টোবর ওই হাসপাতালে যোগ দেন। কিন্তু যোগ দেওয়ার পর ওই হাসপাতালে মাত্র তিন দিন উপস্থিত ছিলেন তিনি। পরে একই বছরের ২৩ অক্টোবর থেকে অননুমোদিতভাবে এখনো তিনি কর্মস্থলে অনুপস্থিত। এদিকে ২০১৬ সালের ৬ এপ্রিল ওই হাসপাতালে মেডিক্যাল অফিসার পদে যোগ দেন ডা. শুভংকর দাস। কিন্তু ওই দিনই তিনি প্রেষণে রাষ্ট্রপতির কার্যালয় বঙ্গভবনের আপন বিভাগে (পারসোনাল ডিভিশন) যোগ দেন।
এ ছাড়া হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) পদটিও দীর্ঘদিন ধরে শুন্য। এতেকরে এখানে কর্মরত মেডিক্যাল অফিসারের পাশাপাশি মেডিকেল অ্যাসিসটেন্টদের ওপর ভর করে কোনো রকমে চলছে হাসপাতালটির জরুরি বিভাগ, ইনডোর, আউটডোর, মেডিক্যাল টিম, ফিল্ড ভিজিটসহ গুরুত্বপূর্ণ অন্য স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম। এদিকে সরকারি ওই হাসপাতালে অত্যাধুনিক অপারেশ থিয়েটার থাকলেও প্রয়োজনীয় সার্জন ও অ্যানেসথেটিস্টের অভাবে এই ওটি কয়েক বছর ধরে বন্ধ আছে। পাশাপাশি বেশ কয়েক মাস ধরে বিকল হয়ে পড়ে আছে এক্স-রে মেশিনটিও।
সরেজমিন হাসপাতালটিতে গিয়ে দেখা যায়, বহিঃবিভাগে আগত রোগীদের প্রচন্ড ভীর। প্রতিটি কক্ষের সামনে রোগীরা দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করছেন। এরমধ্যে বেশীর ভাগ মানুষই জানেন না তাদেরকে যারা চিকিৎসা দিচ্ছেন তারা এমবিবিএস পাশ করা চিকিৎসক না। এসময় চিকিৎসা সেবা নিতে আসা লাইলী আক্তারের সাথে কথা হয়। তিনি মানতেই রাজি নয় যে সরকারী হাসপাতালে এমবিবিএস ডাক্তার ছাড়া কেউ চিকিৎসা দিতে পারে। যখন বুঝলেন, তখন তিনি ক্ষোভের সাথে বলেন, ‘আমাদের অসুখ নিয়ে তো দেখছি তামাশা করা হচ্ছে’। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন মেডিকেল অ্যাসিসটেন্ট জানান, বহিঃবিভাগে আগত রোগী তারাই দেখেন। এরমধ্যে শুধু একজন মেডিকেল অফিসার থাকেন।
বাস্তবে ভেঙ্গে পড়েছে গোয়ালন্দ হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম। দীর্ঘদিন এভাবে চলায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। তারা মনে করছে প্রশাসন তাদের চিকিৎসা নিয়ে তামাশা করছে। প্রেষণ ও বদলী জনিত কারনে হাসপাতালে চিকিৎসক সঙ্কট প্রকট হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করলেও কোন ব্যবস্থা গৃহীত হয়নি। হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় ব্যাপারটি একাধিকাবার উত্থাপিত হলেও এই চিকিৎসক সঙ্কটের কোন সুরাহা পায়নি এলাকাবাসী।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আসিফ মাহমুদ চিকিৎসক সংকটের জন্য কোন উপায় না পেয়ে বাধ্য হয়ে মেডিকেল অ্যাসিসটেন্টদের দিয়ে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হচ্ছে বলে স্বীকার করে বলেন, ‘চিকিৎসক সংকটের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Design by: JIT Solution