1. jitsolution24@gmail.com : Rajbaribd desk : Rajbaribd desk
মঙ্গলবার, ১৬ অগাস্ট ২০২২, ১০:৪৯ পূর্বাহ্ন

হাতের কাজ করে স্বচ্ছল রাজবাড়ীর সারওয়ারী খান

Reporter Name
  • Update Time : শুক্রবার, ৮ মার্চ, ২০১৯
  • ৯০৫ Time View

রুবেলুর রহমান ॥
মা ও বোনদের নিয়ে এক সময় অনেক কষ্টে দিন কাটলেও নিজের ইচ্ছা শক্তি এবং স্বামী ও বোনদের উৎসাহে পাঞ্জাবি, শাড়ি, ফতুয়া, নকশী কাঁথা, বেড শিট, শিশু বাচ্চাদের পোশাক, ওয়ান-টু-ত্রি পিসসহ ইত্যাদিতে হাতের কাজ করে স্বচ্ছল হয়ে উঠেছেন সারওয়ারী খান।
সারওয়ারী খান রাজবাড়ী সদর উপজেলার পৌর বিনোদপুর ভাজনচালা এলাকার মৃত জাহান উল্লাহ খানের মেয়ে। ৫ বোনের মধ্যে তিনি চতুর্থ। বর্তমানে তিনি ৫০ বছর বয়সী এক জীবনযুদ্ধে সফল নারী। যার রয়েছে এখন স্বপ্ননীড় মহিলা উন্নয়ন সংস্থা নামে একটি প্রতিষ্ঠান।
মাষ্টার্স ও দ্বাদশ শ্রেনীতে পড়ূয়া দুই ছেলে, স্বামী মাহমুদ খান ও এক বোনসহ ৫ জনের সংসার এখন সাওয়ার খানের। যিনি এবার জয়ীতা নির্বাচিত হয়েছে।
বাবার মৃত্যুর পর ৫ বোন আর মাকে নিয়ে সারওয়ারী খানের সংসারে দেখা দেয় অভাব অনটন। তখন তার বয়স মাত্র ৭ বছর। সে সময় চাচা রহমান খানের সহয়াতায় কোন রকম চলে তাদের সংসার। জীবন-যুদ্ধের এ অভাব অনটনের মধ্যে পড়াশুনা করতে পারেন নাই তারা। এর মধ্যেই তিনি শেখেন হাতের কাজ। কিন্তু এ কাজ করলেউ তখন কেউ কোন মুজরি দিতেন না। এভাবেই বিয়ে হয় বড় তিন বোনের এবং তার। বিয়ের পর স্বামীর একটি হাত ঘরির দোকান থাকলেউ মোবাইল ফোন বাজারে আসায় তেমন ব্যবসা না হওয়াতে অভাব অনটন থেকেই যায়। স্বামী সংসার নিয়ে তখন অবারো অসহায় হয়ে পড়েন। অসহায় হয়ে পড়লেও অদম্য ইচ্ছা শক্তির ফলে তিনি আবারো হাতের কাজের উপর জোর দেন এবং কাজ শুরু করেন ও অন্যদের শেখান। কিন্তু অভাব থাকলেউ কাজের জন্য পরিবার থেকে বাড়ীর বাইরে তাকে যেতে দিতেন না। এভাবেই তিনি বাসায় বসে অর্ডার নিয়ে কাজ করতে থাকেন। আস্তে আস্তে তার কাজের সুনাম চারিদিকে ছড়িয়ে পড়লে, কাজের পরিধি বেড়ে যায়। এখন তিনি যে কাজ পান তা একা করতে পারেন না। তাই অনেক অস্বচ্ছল মেয়েদেরকে দিয়ে তিনি কাজ করান। যা থেকে ওই মেয়েরাও উপার্যন করতে পারছেন। বর্তমানে বাজারে সব ধরনের পন্যের দাম আকাশ ছোয়া। স্বামীর সামন্য আয়ে সংসার চালানো খুব কষ্টকর। কিন্তু তিনি যখন থেকে হাতের কাজ পুরোদমে শুরু করেছেন, তখন থেকে সংসারের সব অভাব অনটন দুর হতে শুরু করেছে। এ হাতের কাজের আয় দিয়ে সন্তানদের পড়াশুনা, সংসার খরচসহ দৈন্দিন জীবনের যাবতীয় খরচ যোগান দিচ্ছেন। এখন তার হাতের কাজের সুনাম জেলা জুরে এবং আগের মত আর বাসায় গিয়ে অর্ডার আনতে হয় না। কাস্টমাররা এখন তার বাসায় এসে অর্ডার দিয়ে যায়। তার কাজ করা পন্য দিয়ে প্রদর্শনের জন্য বিভিন্ন সময় জেলা প্রশাসন, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা কার্যালয়ের আয়োজিত মেলায় স্টোল সাজান। বাসা থেকেই অনেক ক্রেতারা এসে ছোট-বড়দের পোশাক, কাঁথা, শাড়ি, পাঞ্জাবি, ত্রি-পিস ইত্যাদি পন্য কেনেন এবং তাদের পছন্দ অনুযায়ী অর্ডার দেন। তবে স্বল্প সুদে ঋন পেলে কাজ আরো ভাল করতে পারতেন।
সারওয়ারী খান বলেন, ছোট বেলা থেকে অনেক কষ্ট করে হাতের কাজ জানার মাধ্যমে আজ বড় হয়েছেন। এক সময় অনেক কষ্টে দিন গেছে, তখন চাচার সহযোগিতায় ৫ বোনকে নিয়ে এ পর্যন্ত আসতে পারছেন তার মা। মুলত হাতের কাজ জানার কারণে এ পর্যন্ত আসতে পেরেছেন। বিয়ের পর শশুর বাড়ীর অবস্থা ভাল না হওয়ায় আবার হাতের কাজ শুরু করেন। তখন কাজ করলেও টাকা পেতেন না। আল্লাহর অশেষ রহমতে এখন কাজের মান ভাল হওয়া তিনি অনেক কাজ করনে এবং ২৫ থেকে ৩০ জনের মাধ্যমেও করান। মাত্র ৬ শ টাকা থেকে শুরু করে আজ ৫ জনের সংসার চালান এবং এ আয় দিয়েই দুই সন্তানের পড়াশুনা চালাচ্ছেন। আগে অনেক চিন্তা করতেন কি হবে কিন্তু এখন আর চিন্তা হয় না। বর্তমানে তার সংসার ভাল চলছে এ কাজের আয় দিয়ে।
তিনি আরো বলেন, কাজের জন্য তাকে অনেক সময় ঋন নিতে হয় কিন্তু সে ঋনের সুদের হার অনেক। ব্যাংক বা সংস্থা থেকে স্বল্প সুদে ঋণ দিলে কাজের পরিধি আরো বাড়াতে পারতেন।
রাজবাড়ী মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নূরে সফুরা ফেরদৌস বলেন, সারওয়ারী খান তাদের সাথে সমিতি করেন । তার হাতের কাজের মান অনেক ভাল। বিভিন্ন সময় তার তৈরি পন্য মার্কেট ও মেলায় বিক্রির ব্যবস্থা করে দেন। সারওয়ারী আগে বাড়ীর বাইরে আসতেন না। এখন সমিতির মাধ্যমে বাইরে এনেছেন। এবারের জয়ীতা সম্মাননা পাচ্ছেন তিনি।

 




Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Design by: JIT Solution