1. jitsolution24@gmail.com : Rajbaribd desk : Rajbaribd desk
বৃহস্পতিবার, ১৮ অগাস্ট ২০২২, ০৩:৫১ পূর্বাহ্ন
Title :
রাজবাড়ীর শিক্ষার্থীদের মাঝে গাছের চারা বিতরণ ‘দূস্কৃতিকারী যারাই হোক ছাড় দেওয়া হবে না’ -জিল্লুল হাকিম এমপি সারাদেশে সিরিজ বোমা হামলার প্রতিবাদে রাজবাড়ীতে যুবলীগের বিক্ষোভ কথা রাখছে না বিদ্যুত বিভাগ গোয়ালন্দে ৩৫০০ দূর্বল শিক্ষার্থীর জন্য বিশেষ ক্যাচ-আপ ক্লাবের যাত্রা শুরু বঙ্গবন্ধু ভ্রাম্যমাণ রেল জাদুঘর এখন রাজবাড়ীতে, দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভির রাজবাড়ীতে ৫১ জন দুস্থ ও তৃতীয় লিঙ্গের মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকী ও রোগমুক্তি কামনায় রাজবাড়ীতে দোয়া মাহফিল গোয়ালন্দে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে ২জন গ্রেপ্তার বালিয়াকান্দিতে স্কুলে শোক দিবসে বাজলো হিন্দি গান, তদন্ত কমিটি গঠন

রাজবাড়ীতে দলিত জনগোষ্টির বিকল্প কর্মসংস্থানে পাল্টে দিতে পারে জীবনমান

Reporter Name
  • Update Time : সোমবার, ২৫ মার্চ, ২০১৯
  • ৫৯০ Time View

সোহেল রানা ॥
রাজবাড়ীতে দলিত জনগোষ্টির আর্থিক অনটন, আবাসন সমস্যাসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত। তবুও ইচ্ছা শক্তিতে সন্তানদের মানুষের মত মানুষ করার আশা বুক ভরা। ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়া করাতে দিলেও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের গন্ডি পেড়–তে পারে না বেশির ভাগ শিক্ষার্থী। তারপরও অনেকেই মেধা ও পরিশ্রম করে ভালো ফলাফল করলেও সরকারী চাকুরীর ক্ষেত্রে কোঠা বাস্তবায়ন হয় না। দলিত জনগোষ্টির কর্মক্ষেত্রে আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে ব্যবসায় ও কর্মক্ষেত্রে সফল হতে পারে না। এদেরকে কারিগরি শিক্ষা প্রদানের মাধ্যমে সরকারী ভাবে বিশেষ প্রকল্প গ্রহনের মাধ্যমে পাল্টে দিতে পারে জীবনযাত্রার মান।
রাজবাড়ী পৌর শহরের দৌলৎদিয়া-পোড়াদাহ-রাজবাড়ী রেলওয়ে ষ্টেশন ঘেষে সরকারী জমিতে গড়ে ওঠা বিবেকান্দ্র হরিজন পল্লী। অনেকেই সরকারী কোয়াটারে মাসিক ভাড়া দিয়ে বসবাস করেন। আবার অনেকে এনজিও থেকে ঋন নিয়ে ও বিভিন্ন উপায়ে পাটকাঠি, টিনসেট ঘর উত্তোলন করে স্ত্রী, সন্তান, মাতা-পিতা নিয়ে গাদাগাদি করে বসবাস করেন। নিজের জমি না থাকার ফলে আবাসন সমস্যা তাদের অন্যতম। তাদের বেশির ভাগ পরিবারের সদস্যদের প্রধান আয়ের উৎস সামান্য বেতনে পৌরসভায় চাকুরী। সামান্য বেতনে জীবন ও জীবিকার চাহিদা মেটানো দুষ্কর। সরকারী চাকুরীর ক্ষেত্রে, সরকারী অন্যান্যে সুযোগ সুবিধার ন্যায্য দাবীর হিস্যা না পাওয়ায় তারা নিজ উদ্দ্যোগে গড়ে তুলেছেন একটি সমবায় সমিতি। এ বিবেকান্দ পল্লীর শিশুরা অল্প সংখ্যক ৫বছরে বয়সে ও বেশির ভাগ শিশু ৬ থেকে ৭বছর বয়সে স্কুলে যায়। চাকুরী পেতে তদবীর ও অর্থের কাছে তারা হেরে যায়।
রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার পৌরসভার রেলওয়ে ষ্টেশনের কোল ঘেষে আদিকাল থেকে রেলওয়ের সরকারী জমিতে খুপড়ি ঘর তুলে বসবাস করে আসছে ৬টি ডোম পরিবার। এ পরিবারগুলোর মধ্যে ৪জন গোয়ালন্দ পৌরসভায় ১৮শত টাকা বেতনে চাকুরী করে। কেউ আবার লেখাপড়া শিখে পরিবারের সদস্যদের মুখে দু,বেলা খাবার পৌছে দিতে পাড়ি জমিয়েছে রাজধানী ঢাকায়। স্বাধীনতার পুর্বে অনেক সম্পদশালী ও বিত্তবৈভব থাকলেও স্বাধীনতা পরবর্তী দেশে ফিরে পথের ফকির। ৭১-এ ভিটে-বাড়ী ফেলে ভারতে পাড়ি জমালে জ্বালিয়ে দেওয়া হয় বসতবাড়ী। ফলে পুর্ব পুরুষের জমির দলিলাদি আর দেশে ফিরে তাদের জমি ফেরৎ পায়নি। জমি চলে যায় ভুমিদস্যুদের দখলে। এখনও কিছু জমির কাগজপত্র থাকলেও দখলে নিতে সাহস পাচ্ছে না রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের ডাঙ্গাহাতি মোহন গ্রামের হরিজন জনগোষ্টি। তারা এখন নিঃস্ব ভাবে কালুখালী- ভাটিয়াপাড়া রেলওয়ের জামালপুর ষ্টেশন সংলগ্ন খন্ড খন্ড জমিতে বসবাস করছেন। রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলা সদর ইউনিয়নের পুর্বমৌকুড়ি গ্রামের ঋষিপল্লীর বাসিন্ধারা। আর্থিক অসচ্ছলতার কারনে ছেলেদের স্কুলে যাবার বয়স হলেও বেশির ভাগ পরিবারের সন্তানদেরকে যেতে হয় দু,বেলা দু-মুঠো ভাতের সন্ধানে। এ পল্লীর বেশির ভাগ লোকই গৃহস্থালী কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন ধরনের আসবাবপত্র তৈরীর কাজ করে।
রাজবাড়ী জেলার পাংশা পৌর শহরের ৯নং ওয়ার্ডের মৈশালা-মাগুরাডাঙ্গী গ্রামে আদীকাল থেকে গড়ে ওঠে ঋষি পল্লী। এ পল্লীতে ৩৭টি পরিবার বসবাস করে। জনসংখ্যাও কম নয়। ছোট-বড় দিয়ে প্রায় ৩শতাধিক জন রয়েছে। পুর্ব পুরুষের আমল থেকেই তারা এখানে ঘাটি গেড়ে বসবাস করছে। পৌর শহরের মধ্যে বসবাস হলেও এখানে কোন উন্নয়নের ছোয়া লাগেনি। ঋষি পল্লীর মধ্যে কেউ কেউ জমি অন্যত্র বিক্রি করার কারনে অনেকে বড় বড় ভবন তুলেছে। ফলে ঋষিদের কুড়ে ঘর গুলো যেন চোখে পড়ার নেই। পুর্ব পুরুষেরা আদীকাল থেকেই যে পেশায় সম্পৃক্ত ছিল তারাও সেটা ধরে রেখেছে। তবে দিনবদলের সাথে সাথে তাদের সচেতনতাও বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতিটি পরিবারের ছোট ছেলে মেয়েরা স্কুল ও কলেজে পড়াশোনা করছে। দারিদ্রতার কারনে অনেক ঋষি পরিবারের পুর্ব পুরুষের সম্পত্তি কতিপয় প্রভাবশালী ভুমি দস্যুরা অবৈধ ভাবে দখল করেছে। প্রভাবশালী হওয়ার কারনে তারা প্রতিবাদ করার সাহস পায় না।
সরেজমিন পাংশা ঋষি পল্লীতে গেলে দেখা যায়, পল্লীর বাসিন্ধাদের চলাচলের কোন সড়ক নির্মান করা হয়নি। ঘনবসতি হওয়ায় ঘরের পাশ ঘেষে যে জায়গা রয়েছে তাই পথ হিসাবে ব্যবহার করা হয়। প্রতিটি পরিবারের সদস্যরা বাঁশ ও বেত দিয়ে তৈরী করছে বাঙ্গালী পরিবারের নিত্য দিনের কাজের জন্য আসবাবপত্র। তাদের তৈরীকৃত আসবাবপত্র গুলোর মধ্যে রয়েছে কুলা, ডালা, চালুন, বেড়ী, খৈ-চালা, ধামা, কাটা, সের, বাঁশের ঝুড়িসহ হরেক রকমের জিনিস। এখন অনেকেই পেশা পরিবর্তন করে কেউ কেউ শহরে তৈরী করেছে সেলুন। আবার যারা বাশ ও বেতের তেজসপত্র তৈরী করে তাতে না পোষানোর কারনে কাজের ফাকে বিভিন্ন অনুষ্ঠানাদিতে বাদ্য যন্ত্র বাজিয়ে থাকে। বাড়ী-ঘরের ফাঁকে-ফাঁকে রয়েছে ডোবা। সামান্য পানি জমেছে। বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার সাথে সাথে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। পানিতে হয়ে যায় একাকার। বাসিন্ধাদের পোহাতে হয় দুর্ভোগ। যেন কারোর দুর্ভোগ লাঘবে কোন পদক্ষেপ নেই।
ঋষি পল্লীর বাসিন্ধা রনজিৎ কুমার দাস, মরিমল কুমার দাস, অরুন কুমার দাস, জিতেন কুমার দাস, পরশ কুমার দাস জানান, পুর্ব পুরুষের আমল থেকে এখানে বসবাস করছি। আদি পেশা হিসাবে বাশ ও বেতের তৈরী তেজসপত্র তৈরী করে বাজারে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করি। বাশ ও বেতের দাম বৃদ্ধি পাওয়ার কারনে ও তৈরীর জন্য কাচামাল বাশ ও বেত আনতে কালুখালী ও মৌকুড়ি বাজারে যেতে হয়। ক্রয় করে আনতে অনেক খরচ পড়ে যায়। অল্প পুজিতে তৈরীকৃত মালামাল বিক্রি করে সংসার চালানো দুস্কর হয়ে পড়েছে। অনেকেই বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋন গ্রহন করে বাড়ীর মহিলাদেরকে দিয়ে এসকল তেজসপত্র তৈরী করে আর নিজেরা কেউ সেলুন, বাদ্যযন্ত্র বাজানোর কাজ, রিক্সা চালানোসহ বিভিন্ন কাজে ঝুকে পড়ছে। যে যে রকম পেশাই করুক না কেন, কোন মত সংসার চলে। বিদ্যুতের ব্যবস্থা রয়েছে। সরকার থেকে সুপেয় পানির জন্য কোন ব্যবস্থা না নেওয়ার ফলে যার যার পরিবারের জন্য এনজিও ঋন অথবা ধার দেনা করে ব্যাক্তি উদ্দ্যোগে টিউবয়েল বসিয়েছে। কিছু কিছু পরিবারকে এনজিও ব্র্যাক থেকে স্বাস্থ্য সম্মত পায়খানার জন্য স্যানিটেশন ব্যবস্থা করার ফলে অন্যান্য পরিবারের সদস্যরা ব্যাক্তি উদ্দ্যোগে স্যানিটেশনের ব্যবস্থা করেছে।
শুশান্ত কুমার দাস, মিন্টু কুমার দাস, গনেশ কুমার দাস, শ্যাম কুমার দাস জানান, পল্লীতে ঢোকার কোন রাস্তা নেই। পৌরসভা বা সরকার থেকে কোন উদ্দ্যোগ গ্রহন করা হয় না। ভোটের আগে সবাই এসে ঋষি পল্লীর ভোটের আশা করে। নানা রকম প্রতিশ্রুতি দেয়, ভোট শেষে আর পাওয়া যায় না। জলাবদ্ধতা নিরসনে কোন পদক্ষেপ কেউ নেয় না। জনপ্রতিনিধিদের কাছে বার বার দাবী জানিয়ে আসলেও কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। ঋষি পল্লীর বাসিন্ধারা সবাই একজোট থাকার কারনে ও সরকারী বেসরকারী অফিসের সেবা গুলো জানার ফলে আগে কোন সরকারী কোন সহযোগিতা পেত না। ইদানিং একটু সচেতন হওয়ার কারনে দু,একজনকে বিধবা ভাতা, বয়স্কভাতা, ভিজিএফ কার্ড দেওয়া হচ্ছে। এ পল্লীর একমাত্র কালী মন্দিরটি অর্থাভাবে কাজ সম্পন্ন হয়নি। এখানে যারা বসবাস করে তারা সবাই অসচ্ছল হওয়ার কারনে নিজেরা কিছু অর্থ তুলে আর সরকার থেকে ১মেট্রিকটন চাউল দেওয়া হয়েছিল তা দিয়েই কোন মত কাজ করা হয়েছে। আরো কিছু অর্থ পেলে মন্দিরটি সংস্কার করে পুজা অর্চনা করা যেত।
কলেজ ছাত্র জীবন দাস জানায়, পড়ালেখা করে আমি এ ঋষি পল্লীর একজন মানুষের মত মানুষ হয়ে সকলের ছেলে মেয়েদের শিক্ষার দিকে ঝোকার অনুপ্রেরনা সৃষ্টি করতে চাই। আমি সকলের ছেলে মেয়েদেরকে লেখাপড়া শেখার জন্য তাগিদ দেই। আমি শুধু কলেজে লেখাপড়া নয় পড়াশোনার পাশাপাশি বাড়ীতে বাবা মায়ের ও কাজের সহযোগিতা করি। তবে কলেজে আমাদের কোন বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয় না। অন্যান্যেদের মতই সকল খরচ বহন করতে হয়।
এমনিতেই বাঁশ-বেতের মুল্য চড়া হওয়ায় যা আয় হয় তা দিয়ে সংসার পরিচালনা করা দুষ্কর। পড়ালেখার প্রতি অভিভাবকদের ইচ্ছা থাকলেও আর্থিক অনটনের কারনে বেশির ভাগ ছেলে-মেয়েরা মাধ্যমিক পর্যায়ের আগেই ঝড়ে পড়ে। সরকার শিক্ষা ক্ষেত্রে বিশেষ নজর ও বৃত্তির ব্যবস্থা করলেও দলিত সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা বরাদ্দ প্রদানের দাবী জানিয়েছেন। সুপেয় পানির জন্য ব্যাক্তি উদ্দ্যোগে এনজিও থেকে ঋন নিয়ে টিউবয়েল বসিয়েছে। পল্লীতে প্রবেশের কোন রাস্তা নেই। পানি নিষ্কাষনের কোন ব্যবস্থা না থাকার পোহাতে হয় চরম দুর্ভোগ। এমন অবস্থায় পরিনত হয়েছে রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলা সদর ইউনিয়নের পুর্বমৌকুড়ি গ্রামের ঋষিপল্লীর বাসিন্ধাদের। তাদের বেশির ভাগ পরিবারের সদস্যদের প্রধান আয়ের উৎস বাঁশ ও বেতের বিভিন্ন ধরনের আসবাবপত্র, তেজসপত্র তৈরী করে বিক্রি করা। এ দিয়ে যে অর্থ আয় হয় তা দিয়ে সংসার পরিচালনা করতে হীমশিম খেতে হয়। এখন অনেকে জীবন ও জীবিকার তাগিদে বাপ-দাদার পেশা ছেড়ে সেলুনসহ অন্যান্যে কাজের প্রতি ঝুকে পড়ছে। এ ঋষি পল্লীর শিশুদেরকে কম সংখ্যক ৫বছরে বয়সে স্থানীয় ব্যাপিষ্ট স্কুল, ব্র্যাক স্কুল ও বেশির ভাগ শিশুদেরকে ৬ থেকে ৭বছর বয়সে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠানো হয়।
ছেলেরা সাধারনত বেশির ভাগ পঞ্চম শ্রেনী থেকে অষ্টম শ্রেনী পর্যন্ত পড়ালেখা করে। মেয়েরা বেশি দুর লেখাপড়া করতে পারে না বেশির ভাগ হাই স্কুলে ভর্তি হওয়ার পরই তাদেরকে বিয়ে দেওয়া হয়। প্রায় সবকটি পরিবারের ছেলে -মেয়েদেরকে ১৪-১৫ বছর বয়স হলেই বিয়ে দেওয়া হয়। তাদের অধিকাংশই কারন হিসাবে উল্লেখ করেছেন পরিবারের আয় না থাকার কারণে লেখাপড়ার খরচ যোগাতে ব্যর্থ হওয়ার কারনে। এদের বেশির ভাগই পঞ্চম শ্রেনী থেকে বাদ দিয়েছে। ঝড়ে পড়ার কারন পরিবারের সদস্য সংখ্যা বেশি ও আয়ের উৎস না থাকার কারনে । প্রতিমাসে প্রতিটি ছেলে মেয়েদের শিক্ষা গ্রহনে বেতন, প্রাইভেট, পোশাক, খাতা,কলমসহ প্রায় ১৪শত থেকে ১৮ শত টাকা খরচ হয়।
পুর্ব মৌকুড়ি গ্রামের সচেতন ব্যাক্তি মিলন দাস জানান, ঋষি পল্লীতে ৩৩টি পরিবার বসবাস করে। ২শত লোকের বসবাস। এদের মধ্যে প্রায় পরিবারের সদস্য বাঁশ ও বেত দিয়ে তেজসপত্র তৈরী ও বিক্রি করে। আবার কেউ কেউ বাদ্য যন্ত্র বাজায়। এখন এ পেশা ছেড়ে বেশির ভাগ সেলুনের কাজে ঝুকে পড়ছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করার পরই বাদ দেয়। অনেকে স্কুলের বারান্দায় পা রাখার সুযোগ পায় না। বেশির ভাগ ছেলে মেয়েরা ৫ম শ্রেনী থেকে ৮ম শ্রেনী পর্যন্ত পড়ালেখা করে ঝড়ে পড়ে। বাপ দাদার পেশা ছাড়া তাদের আর অন্য আয়ের উৎস নেই। এখানে বিদ্যুতের কোন ব্যবস্থা নেই। বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার সাথে সাথে শুরু হয় অর্বতনীয় দুর্ভোগ। তারা পানি নিষ্কাশনসহ পল্লীর মধ্যে দিয়ে রাস্তার দাবী জানান। সরকারী ভাবে দলিত জনগোষ্টিকে প্রণোদনা দেওয়া হলে তারা ব্যবসায়িক ক্ষেত্রেও সফলতা আনতে পারবে। কারিগরি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদেরকে শক্ত জনশক্তিতে রুপান্তর করা সম্ভব। স্থানীয় পর্যায়ে উপজেলা যুব উন্নয়ন, পশুসম্পদ কার্যালয়, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর থেকে পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ ও সহজ শর্তে ক্ষুদ্র ঋনের ব্যবস্থা করলে তারা স্বাবলম্বী হবে। এদিকে সরকারী ভাবে এ উদ্যোগ গ্রহনের দাবী।

 




Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Design by: JIT Solution