1. jitsolution24@gmail.com : Rajbaribd desk : Rajbaribd desk
বৃহস্পতিবার, ১৮ অগাস্ট ২০২২, ০৪:৪২ পূর্বাহ্ন
Title :
রাজবাড়ীর শিক্ষার্থীদের মাঝে গাছের চারা বিতরণ ‘দূস্কৃতিকারী যারাই হোক ছাড় দেওয়া হবে না’ -জিল্লুল হাকিম এমপি সারাদেশে সিরিজ বোমা হামলার প্রতিবাদে রাজবাড়ীতে যুবলীগের বিক্ষোভ কথা রাখছে না বিদ্যুত বিভাগ গোয়ালন্দে ৩৫০০ দূর্বল শিক্ষার্থীর জন্য বিশেষ ক্যাচ-আপ ক্লাবের যাত্রা শুরু বঙ্গবন্ধু ভ্রাম্যমাণ রেল জাদুঘর এখন রাজবাড়ীতে, দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভির রাজবাড়ীতে ৫১ জন দুস্থ ও তৃতীয় লিঙ্গের মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকী ও রোগমুক্তি কামনায় রাজবাড়ীতে দোয়া মাহফিল গোয়ালন্দে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে ২জন গ্রেপ্তার বালিয়াকান্দিতে স্কুলে শোক দিবসে বাজলো হিন্দি গান, তদন্ত কমিটি গঠন

মুক্তিযুদ্ধে ব্যবহৃত অস্ত্রটি জাদুঘরে দেখতে চায় মুক্তিযোদ্ধা ফজলু চৌধুরী

Reporter Name
  • Update Time : মঙ্গলবার, ২৬ মার্চ, ২০১৯
  • ৭৪৪ Time View

মহান মুক্তিযুদ্ধে স্থানীয় যোদ্ধাদের প্রাথমিক প্রশিক্ষণ ও বিভিন্ন যুদ্ধে ব্যাবহৃত নিজের লাইসেন্স করা .২২ বার রাইফেলটি ঢাকার কেন্দ্রীয় মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে দেখতে চান মুক্তিযোদ্ধা আ.কা ফজলুল হক চৌধুরী। তার শেষ ইচ্ছাটি পুরনের জন্য গত ৬ মার্চ রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত আবদেন করেছেন এই বীর মুক্তিযোদ্ধা। অবসর প্রাপ্ত এই সরকারী কর্মচারী রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার ছোটভাকলা ইউনিয়নের চর কাঁচরন্দ গ্রামের বাসিন্দা।
আলাপকালে মুক্তিযোদ্ধা আ.কা. ফজলুল হক চৌধুরী জানান, সরকারী চাকুরী করলেও ৭১ সালে অসহযোগ আন্দোলনে সক্রিয় হয়ে ওঠেন তিনি। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের জ¦লাময়ী ভাষনের পর তিনি অনুধাবন করেন চুড়ান্ত বিজয় ছাড়া বঙ্গবন্ধু ফিরে আসার পাত্র নন। ফলে যুদ্ধ অনিবার্য। এসময় তিনি এলাকার যুবকদেরকে বোঝাতে শুরু করেন স্বশস্ত্র সংগ্রাম ছাড়া আমাদের আর পথ খোলা নেই। যারা তার কথায় আগ্রহী হয়ে উঠলেন তাদের নিয়ে ৭১ সালের ১০ মার্চ গোয়ালন্দ উপজেলার তেনাপচা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে প্রথম রাইফেল চালানোর প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। এরপর বিভিন্ন গোপন স্থানে তার লাইসেন্স করা রাইফেল দিয়ে প্রাথমিক প্রশিক্ষণ দেয়া শুরু করেন তিনি। এরপর তাকে সহযোগিতার হাত বাড়ান বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ট সহচর ডা. এস এ মালেকসহ কাজী হেদায়েত হোসেন। ডা. এস এ মালেক সাহেবেরও একটি লাইসেন্স করা রাইফেল ছিল। সেটিও প্রশিক্ষণে ব্যবহার ও তাদেরকে বিভিন্ন ভাবে উদ্বুদ্ধ করেন তিনি। ইতিমধ্যে ঢাকায় যুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে। তারা জানতে পারেন দক্ষিণ বঙ্গের প্রবেশদ্বার গোয়ালন্দ ঘাট দিয়ে পাক বাহিনী ২৭ অথবা ২৮ মার্চ দক্ষিণাঞ্চলে ঢুকবে। সেখানে স্থানীয় শত শত মানুষ ব্যাগ ভর্তি করে রেল লাইনের খোয়া ও দু’একটি অস্ত্রসহ দা-কাঁচি-খোনতা নিয়ে প্রতিরোধে অংশ নেয়। তবে সেদিন পাক বাহিনী গোয়ালন্দ ঘাটের দিকে না এসে পাবনার নগরবাড়ীর দিকে ঢোকে। এরপর ডা. এস এ মালেক তাকে জানায় কুষ্টিয়ায় ইপিআর কমান্ডার লে. কর্ণেল আবু ওসমান চৌধুরীকে সহযোগীতা করতে সেখানে যেতে হবে। সম্ভবত ৩১ তারিখে আমরা কুষ্টিয়ায় একটি যুদ্ধে অংশ নেই। সেখানে আমাদের ২জন সহযোদ্ধা শহীদ হন। পরে লে. কর্ণেল আবু ওসমান চৌধুরী তাদেরকে এক প্লাটুন ইপিআর ও বেশ কিছু রাইফেল, মেশিনগান, এলএমজি দিয়ে গোয়ালন্দে পাঠিয়ে দেন। ২১ এপ্রিল গোয়ালন্দের প্রতিরোধ যুদ্ধে এ সকল অস্ত্র ও ইপিআর সদস্যরা অংশগ্রহন করেন। স্থানীয় রাজাকাররা পাকবাহিনীকে তথ্য সরবরাহ করায় ২১ এপ্রিল পাকবাহিনীকে আমরা প্রতিরোধ করতে পারি নাই। তিনি বলেন, ‘২৬ মার্চের পর যাদের গায়ে আওয়ামীলীগের গন্ধ ছিল তাদের আত্মগোপন ছাড়া কোন উপায় ছিল না।’ এরপর অক্টোবর মাসের দিকে ভারত থেকে ট্রেনিং নিয়ে ৮জন স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা গোয়ালন্দে ফিরে আসেন। তাদেরকে প্রথমে আমার বাড়িতেই থাকার ব্যবস্থা করি।
জেলার একাধিক মুক্তিযোদ্ধা ও স্থানীয়দের স্বীকৃত একজন মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধাদের প্রাথমিক প্রশিক্ষক হলেও এখনো পর্যন্ত তালিকায় স্থান পায়নি তার নামটি। শুরুতে তিনি তালিকাভূক্ত হওয়ার আবেদন করেছিলেন না। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর চাকুরী ক্ষেত্রে আমি মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য দু’টি ইনক্রিমেন্ট ও দুই বছরের জৈষ্ঠ্যতা পাই। আমার ধারনা ছিল অন্যান্য বিভাগ যেমন ইপিআর-আনছারদের মত আমি সরকারী সিদ্ধান্তেই মুক্তিযুদ্ধাদের তালিকাভূক্ত হয়ে যাবো। কিন্তু সেটা হয় নাই। সর্বশেষ যাচাই-বাছাই কমিটিতে সহযোদ্ধাদের স্বীকৃতিসহ সকল শর্ত পুরন করে আমি আবেদন করি। কিন্তু অদৃশ্য কারণে তা মঞ্জুর করা হয়নি। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মুক্তিযুদ্ধে আমি অবদান রাখতে পেরেছিলাম মানষিক ভাবে এটাই আমার বড় পাওয়া। আল্লাহুর রহমতে বর্তমানে আমার ছেলে-মেয়েরা প্রত্যেকেই সুপ্রতিষ্ঠিত। মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে তাদের কোন সুবিধা আপাতত প্রয়োজন নেই। আমার কবরে যাওয়ার সময় ঘনিয়ে এসেছে, তাই আমার ইচ্ছা মহান মুক্তিযুদ্ধে ব্যবহৃত রাইফেলটি যদি মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে সংরক্ষণ করা হয়, তবে আমার পরবর্তী প্রজন্ম সেটা দেখে গর্বিত হবে।
মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা গিয়াস রচিত রাজবাড়ী জেলার মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে ‘কিশোর মুক্তিযোদ্ধাদের গল্প’ নামের বইতে লেখক স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ ও সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহনের মাধ্যমে আ.কা. ফজলুল হক চৌধুরীর বিশেষ অবদানের কথা লিখেছেন। যে বইয়ের অনেকটা অংশ দখল করে রেখেছেন বীর এই মুক্তিযোদ্ধা।
এ বিষয়ে তালিকাভূক্ত দুইজন মুক্তিযোদ্ধার সাথে কথা হয়। তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দৃঢ়তার সাথে বলেন, নিঃসন্দেহে ফজলুল হক চৌধুরী একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। মুক্তিযোদ্ধা সংসদের মধ্যে গ্রুপিংসহ বিভিন্ন কারণে তিনি এখনো তালিকাভূক্ত হতে পারেননি।
উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার আব্দুস সামাদ মোল্লার কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সময় মত তিনি কেন আবেদন করেননি।’ আ.কা. ফজলুল হক চৌধুরী সম্পর্কে আমি কোন বক্তব্য দিতে পারব না বলে জানান।

 




Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Design by: JIT Solution