1. jitsolution24@gmail.com : Rajbaribd desk : Rajbaribd desk
মঙ্গলবার, ০৯ অগাস্ট ২০২২, ০৫:২৪ পূর্বাহ্ন

নাগরিক সুবিধা বঞ্চিত বিচ্ছিন্ন দ্বীপের নাম বেতকা ও রাখালগাছি

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, ৩০ মার্চ, ২০১৯
  • ১০৩১ Time View

রাজবাড়ী জেলার সবচেয়ে ছোট উপজেলা গোয়ালন্দের বাসিন্দা হয়েও বেতকা ও রাখালগাছি চরবাসী যেন বিচ্ছিন্ন এক দ্বীপে বসবাস করে। এ চরের বাসিন্দাদের নেই নূন্যতম নাগরিক সুযোগ-সুবিধা। চারদিকে পদ্মা ও যমুনা নদী দ্বারা বেস্টিত। পূর্বে রয়েছে ফরিদপুর, দক্ষিণে রাজবাড়ীসদর, পশ্চিমে পাবনা ও উত্তরে রয়েছে মানিকগঞ্জ জেলা। পূর্ব-দক্ষিণ ও পশ্চিমের অংশ জুড়ে রয়েছে প্রমত্তা পদ্মা এবং উত্তর-পশ্চিমে রয়েছে যমুনা নদী।
গোয়ালন্দ উপজেলা সদর থেকে দেবগ্রামের অন্তারমোড় পর্যন্ত দূরত্ব প্রায় ১১কিলোমিটার। অন্তারমোড় থেকে ইঞ্জিন চালিত ট্রলার যোগে যেতে হয় বেতকা খেয়া ঘাটে। শুষ্ক মৌসুমে সময় লাগে এক ঘন্টারও বেশি আর ভরা বর্ষায় নদীতে স্রােত থাকায় সময় লাগে দুই থেকে আড়াই ঘন্টা। খেয়া ঘাট থেকে বেতকা-রাখালগাছি পৌঁছতে বালুর চর হেঁটে পাড়ি দিতে সময় লাগে আরো দীর্ঘ সময়।
এখানে নেই হাট-বাজার, রাস্তা-ঘাট, চিকিৎসা কেন্দ্র, বিনোদনের ব্যবস্থা। এখানকার মানুষের প্রধান পেশা কৃষি ও মৎস্য শিকার। অনেকের বাপ-দাদার জমি নদী ভাঙ্গনের পর জেগে ওঠায় ফের বসতি গড়েছেন। অনেকের জায়গা-জমি না থাকায় অন্যের জমি নামমাত্র টাকা দিয়ে চাষাবাদ করে কোনমতে জীবিকা নির্বাহ করছেন। কারো পরিবারের কোন সমস্যা, নিত্যদিনের প্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনতে বা জরুরী চিকিৎসার প্রয়োজন পড়লে একমাত্র ভরসা নৌকা। সেই নৌকাও শুধুমাত্র দিনের আলোতে চলাচল করে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেই নৌকাতে তাদের চলাচল করতে হয়। এলাকায় আচার-অনুষ্ঠানের জন্য বাজার করতে ছুটতে হয় গোয়ালন্দ, রাজবাড়ী বা পাশের পাবনা, মানিকগঞ্জ জেলা শহরে।
গোয়ালন্দ উপজেলার চারটি ইউনিয়নের মধ্যে নদী ভাঙ্গন ও দরিদ্র এলাকা দেবগ্রাম ইউনিয়ন। এই ইউনিয়নের দুটি মৌজার নাম বেতকা ও রাখালগাছি। যেখানে প্রায় ৪শ পরিবারের অন্তত দেড় হাজার মানুষ বসবাস করে। এই এলাকার মানুষের চলাচলের নিত্যদিনের সঙ্গী হচ্ছে নৌকা। পাবনা, মানিকগঞ্জ ও রাজবাড়ী জেলার মানুষ নিয়মিত চলাচল করে।
বেতকায় পদ্মার পাড়ে প্রায় চার মাস ধরে কোন রকম ঝুপড়ি ঘর করে দোকান করছেন কালাম শেখ। তার বাড়ি ঘাট থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে রাখালগাছি এলাকায়। মাথার ওপর প্লাস্টিকের চটের সামিয়ানা টানিয়ে তিন পাশে কোনরকম ঘিরে কিছু শুকনা খাবার, কলা, বিস্কুট আর নদীর কলসি ভর্তি পানি নিয়ে বসে আছেন তিনি। কালাম শেখ বলেন, আগে এখানে কিছুই ছিলনা। আমি প্রথম নদী পাড়ে ছোট্র দোকান দেওয়ার পরিকল্পনা করি। গোয়ালন্দ বাজার বা রাজবাড়ী থেকে এক-দুই দিন পর পর কিছু শুকনা খাবার নিয়ে আসি। বেতকা থেকে অন্তার মোড়ের উদ্দেশ্যে প্রতিদিন নৌকা সকাল সাতটায় শুরু করে সন্ধ্যা পর্যন্ত ছয়বার মানুষ আসা-যাওয়া করে। এরপর নৌকা চলাচল বন্ধ হওয়ার পর দোকান বন্ধ করে মালামাল গুটিয়ে বাড়ি নিয়ে যাই। ছোট্ট পরিসরে টানানো সামিয়ানার নিচে নদী পারাপারের মানুষ এখানে বিশ্রাম নেয়। হালকা শুকনা খাবার খায়, পান করে নদীর পানি।
পাবনার ঢালার চর থেকে নাতিকে কোলে নিয়ে খেয়া ঘাটে বসে আছেন রওশন মোল্লা দম্পতি। ঢালার চর থেকে পাবনার দূরত্ব অনেক। তাই কাছে হওয়ায় রাজবাড়ী শহরে যাচ্ছেন চিকিৎসা করাতে। তারা বলেন, “কি করমু। নাতির ঠান্ডা লাইগা গেছে। তাই প্রায় দুই ঘন্টা ধরে এহানে বইস্যা আছি। নৌকা আসলেই আমরা যামু”।
রাজবাড়ীর আলাদীপুর থেকে মেয়ে জামাই বাড়ি রাখালগাছির নজরুল মোল্লার বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন কালাম প্রধান। তিনি বলেন, মেয়ে বিয়ে দিয়েছি তাই মাঝেমধ্যে আসতে হয়। বর্ষাকালে ঘন্টার পর ঘন্টা ঘাটে বসে থাকতে হয়। শুকনা মৌসুমেও এভাবে নৌকার জন্য অপেক্ষায় থাকতে হয়। একবার আসলে দিন শেষ হয়ে যায়।
স্থানীয় ইউপি সদস্য হাসমত আলী খান বলেন, প্রায় দেড় হাজার মানুষ এখানে বাস করে। চারদিকে নদী থাকায় মনে হবে যেন দ্বীপে বাস করছে। এখানে নেই কোন ধরনের নাগরিক সুবিধা। রাস্তা-ঘাট, হাঁট-বাজার, স্বাস্থ্যসেবা নেই। তাই আমি নিজেই থাকি রাজবাড়ী জেলা শহরে। খুব প্রয়োজন পড়লে মাঝেমধ্যে আসি। পাশের পাবনা ও রাজবাড়ী জেলা শহরের মানুষ কাজের প্রয়োজনে এখান দিয়ে চলাচল করে।
দেবগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান আতর আলী সরদার বলেন, গোয়ালন্দের হয়েও তারা নাগরিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। মাঝেমধ্যে সরকারি কিছু বরাদ্দ আসলেও ইউনিয়নের অন্যান্য এলাকায় দিতে গিয়ে টানাপোড়েনে পড়তে হয়। যোগাযোগ ব্যবস্থা খারাপ হওয়ায় সহজে যাওয়া-আসা হয়না।
গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুবায়েত হায়াত শিপলু বলেন, ওই অঞ্চলে গুচ্ছগ্রামের কাজ চলছে। আশা করি দ্রুত তারা সেখানে বাস করতে পারবে। অন্যের জমিতে থাকতে হবেনা। তিন মাসের মধ্যে ওই অঞ্চলকে সোলারের আওতায় বিদ্যুতায়িত করা হবে। সরকারি সুযোগ-সুবিধা প্রদানের ব্যবস্থা চলছে।

 




Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Design by: JIT Solution