1. jitsolution24@gmail.com : Rajbaribd desk : Rajbaribd desk
রবিবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২২, ১০:৫১ পূর্বাহ্ন

বাল্যবিয়ে গোয়ালন্দের সামাজিক ব্যধিতে পরিনত হয়েছে

Reporter Name
  • Update Time : সোমবার, ২০ নভেম্বর, ২০১৭
  • ১৭৫৮ Time View

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে সচেতনতার অভাবে বাল্যবিয়ে একটি সামাজিক ব্যাধিতে পরিনত হয়েছে। বাল্যবিয়ের শিকার হয়ে এ বছর অষ্টম শ্রেণি থেকেই শেষ হয়ে গেছে ৪০ ছাত্রীর শিক্ষা জীবন। সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

গত শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপে উপজেলার ছোট ভাকলা ইউনিয়নের চর বরাট গ্রামের একটি বাল্যবিয়ে বন্ধ হয়েছে। সেখানে বিয়ের আয়োজন করা হয়েছিল আ. সালাম মোল্লার সপ্তম শ্রেণিতে পড়–য়া স্কুলছাত্রী পপি আক্তারের। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবু নাসার উদ্দিন, গোয়ালন্দ ঘাট থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মো. জিয়ারুল ইসলাম ও ইউপি চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন বিয়ে বাড়িতে গিয়ে ওই বিয়ে বন্ধ করেন। এর একদিন আগে উপজেলার উত্তর দৌলতদিয়া গ্রামের নবম শ্রেণিতে পড়–য়া স্কুলছাত্রী আফরোজা আক্তারের বিয়ে বন্ধ করে প্রশাসন।

উপজেলার জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষা কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, এবার গোয়ালন্দ উপজেলায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হতে মোট ১৮৪৪ জন পরীক্ষার্থী জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে ২০৩ জন জেডিসি ও বাকী ১৬৪১ জন জেএসসি পরীক্ষার্থী। গত ১ নভেম্বর হতে শুরু হওয়া এ পরীক্ষায় ৫৬ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত রয়েছে। এর মধ্যে ৪০ জন মেয়ে ও ১৬ জন ছেলে রয়েছে। তাদের অনুপস্থিতির ব্যাপারে পরীক্ষা কেন্দ্র ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান সূত্র জানায়, অনুপস্থিত প্রায় সকল মেয়েদের বিয়ে হয়ে যাওয়ায় তারা পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি বলে তারা জেনেছেন।

গোয়ালন্দ প্রপার হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক হাবিবুর রহমান জানান, তার বিদ্যালয় হতে এবার ফরম পূরণ করেও ৬ টি মেয়ে জেএসসি পরিক্ষা দিচ্ছে না। খোঁজ নিয়ে দেখেছি এদের প্রত্যেকের বিয়ে হয়ে গেছে। দরিদ্র ও অসচেতন অভিভাবকরা মেয়েদের প্রকৃত বয়স গোপন রেখে মিথ্যা তথ্য দিয়ে জন্মনিবন্ধন সনদ বের করে মেয়েদের বিয়ে দিচ্ছে। আবার কোন কোন ক্ষেত্রে জাল জন্মসনদ দিয়ে বিয়ে রেজিষ্ট্রি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক জানান, তিনি একজন দিনমজুর। অনেক কষ্টে তিন মেয়ের মধ্যে বড় মেয়েটাকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়া-লেখা করাতে পেরেছেন। তাই বিয়ের প্রস্তাব আসায় মেয়েটিকে বিয়ে দিয়ে দিয়েছেন। তিনি আরো জানান, মেয়ে বড় হলে তার নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত থাকতে হয় বাবা-মায়ের। বখাটেদের হাত থেকে মেয়েকে নিরাপত্তা দেয়ার ক্ষমতা তাদের নেই। সব কিছু বিবেচনা করে বে-আইনি হলেও মেয়েকে বিয়ে দিয়ে দিয়েছেন।

চৌধুরী মাহ্বুব হোসেন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক লিয়াকত হোসেন জানান, তাদের বিদ্যালয় থেকে ৫জন মেয়ে পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে না। তারা যতদুর জেনেছেন, এদের পারিবারিক অসচ্ছলতার কারণে অভিভাবকরা কম বয়সেই বিয়ে দিয়ে দিয়েছেন। যে কারণে তারা ফরম পুরন করেও পরীক্ষয় অংশ নিচ্ছে না।

বাল্যবিয়ের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া আফরোজা আক্তার জানায়, অভিভাবকদের ভুলে এই বয়সে তার অনেক বড় ক্ষতি হয়ে যাচ্ছিল। ভবিষ্যতে সে লেখা-পড়া শিখে নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়।

গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবু নাসার উদ্দিন জানান, তিনি এ উপজেলা সম্প্রতি যোগদিয়ে বাল্যবিয়ের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। দুই দিনে দুটি বাল্যবিয়ে বন্ধ করা হয়েছে। এছাড়া জনপ্রতিনিধিদের এ ব্যাপারে দিক নির্দেশনা দেয়া হচ্ছে। গোয়ালন্দ উপজেলাকে বাল্যবিয়ে মুক্ত করতে সব রকম পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Design by: JIT Solution